করোনা-পরবর্তী সতর্কতা

0

করোনা নেগেটিভ হওয়া বা হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া মানেই অসুস্থতার অবসান নয়। করোনার পরও চাই যত্ন আর সতর্কতা। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য

মহামারী করোনাভাইরাসের টিকা চলে এলেও এখনো করোনা আতঙ্ক কাটেনি। সারা বিশ্বে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৬ কোটি ৫৩ লাখের বেশি মানুষ। করোনা সংক্রমণ থেকে সুস্থ হলেও নানা স্বাস্থ্য জটিলতা দেখা দিতে পারে। এটিকে বলা হচ্ছে পোস্ট কভিড-১৯ সিনড্রোম। করোনা থেকে নিরাময়ে যেমন সচেতনতা দরকার তেমনি পোস্ট কভিড-১৯ সিনড্রোমের বিষয়ে জানা এবং করোনা সংক্রমণ-পরবর্তী স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানে সবার সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

করোনা সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পর নতুন ধরনের বিশেষ জটিলতা দেখা দিতে পারে। যেমন- মাঝে মাঝে মাথা ব্যথা, অতিরিক্ত শারীরিক দুর্বলতা, শরীর ব্যথা, জয়েন্ট ও মাংসপেশিতে ব্যথা, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও মাঝে মাঝে নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসে ব্যাঘাত ঘটা। কাজকর্মে ও চিন্তা এবং স্মরণশক্তি (brain fog) আংশিক লোপ পাওয়া। স্বাদন্ডগন্ধের অনুভূতি লোপ পাওয়া। ঘুমের চক্র (sleep cycle) নষ্ট হওয়া। চুল পড়ার হার বেড়ে যাওয়া। গায়ে ও পায়ে লালচে চাকা চাকা (rash) দেখা দেওয়া। পরিপাকতন্ত্রের নানা সমস্যা যেমন হজম না হওয়া, মাঝে মাঝে ডায়রিয়া হওয়া। ফুসফুস, কিডনি ও হার্টের অপরিবর্তনীয় (অপূরণীয়) ক্ষতি সাধিত হওয়া। স্বাস্থ্যের/ জীবনের (quality of life) মানের অবনতি ঘটতে থাকে। কারও কারও ক্ষেত্রে মানসিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

ইতিমধ্যে যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে অন্তত ১০ শতাংশ রোগী উপরোল্লিখিত এ ধরনের সমস্যায় ভুগতে পারেন। করোনা সংক্রমণ-পরবর্তী শারীরিক দুর্বলতার নাম পোস্টভাইরাল সিনড্রোম বা পোস্টভাইরাল ফ্যাটিগ সিনড্রোম। এ সময় ভীষণ রকম ক্লান্তি, অবসাদ ও দুর্বলতা, কোনো কিছু ভালো না লাগা, নিজের যত্ন ঠিকভাবে নিতে না পারা ও কোনো কিছুতে মনোযোগ দিতে না পারার মতো সমস্যা দেখা দেয়, যা সপ্তাহ থেকে মাস পর্যন্ত গড়াতে পারে। তাই করোনা নেগেটিভ হওয়া বা হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া মানেই সব অসুস্থতার অবসান নয়। করোনার পরও চাই যত্ন আর সতর্কতা।

সুষম খাদ্য গ্রহণ, পরিমিত হালকা শরীর চর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ক্ষেত্রবিশেষে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত। বিষণতা কাটাতে গান শোনা, বই পড়া বা মনকে প্রফুল্ল করে এমন কিছু করুন। নিয়মিত ফলোআপ (follow-up) অবশ্যকরণীয় এবং এর সঙ্গে মানসিক দৃঢ়তা বজায় রাখতে হবে।

লেখক: নাক, কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ

Share.

About Author

Leave A Reply

hioidind