করোনার ভয়ঙ্কর নতুন রূপ ভারতে

0

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব। এই ভাইরাসে দিশেহারা হয়ে টিকার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে বিশ্বের বিজ্ঞানীরা। বেশ কয়েকটি টিকা আবিষ্কারও হয়ে যায়। কিন্তু এরই মধ্যে দেখা দিয়েছে নতুন বিপত্তি। যুক্তরাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা শক্তিশালী নতুন রূপ। আগের সেই ভাইরাসের ৭০ শতাংশ বেশি এই নতুন স্ট্রেনের সন্ধান মিলেছে আরও বেশ কয়েকটি দেশ। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়েই।

এদিকে, আতঙ্কের মধ্যেই আফ্রিকায় পাওয়া যায় করোনার আরও একটি শক্তিশালী নতুন রূপ, যা আরও বেশি ভয়ঙ্কর।

এবার সেই আফ্রিকান রূপটির অস্তিত্ব পাওয়া গেল ভারতেও। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন প্রজাতির সংক্রমণ তিনটি অ্যান্টিবডিকে বোকা বানাতে সক্ষম।

ভারতের মহারাষ্ট্রের খারগড়ের টাটা মেমোরিয়াল সেন্টার মুম্বাই সংলগ্ন অঞ্চলে এই প্রজাতির ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে তিনজন রোগীর শরীরে। জানা গেছে, ব্রিটেনের মতোই জটিল বিভাজন দেখা গিয়েছে নতুন প্রজাতির এই করোনাভাইরাসে, যার সঙ্গে মিল রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকায় মহামারী সৃষ্টিকারী ‘ই৪৮৪কে’ প্রজাতির।

খারগড়ে টাটা মেমোরিয়াল সেন্টারের এসিপিআরইসি বিভাগের গবেষক দলের সদস্য হেমাটোপ্যাথোলজি বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রোফেসর নিখিল পাটকর জানিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় দেখতে পাওয়া করোনাভাইরাসের তিন বিভাজিত প্রজাতির অন্যতম ‘ই৪৮৪কে’ এর সন্ধান পাওয়া গেছে ৭০০টি নমুনার মধ্যে ৩টি নমুনায়।

তার দাবি, এই প্রজাতির কোভিড ভাইরাস মানবশরীরে তৈরি হওয়া তিনটি অ্যান্টিবডিকে ফাঁকি দিতে পারে বলেই এটি আরও ভয়াবহ।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইতিমধ্যে এই নতুন প্রজাতির কোভিড ভাইরাসকে ইউরোপে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ সৃষ্টিকারী ব্রিটেনের স্ট্রেনের তুলনায় ‘আরও জটিল সমস্যা’ বলে উল্লেখ করছে।

চরিত্রগতভাবে যেকোনও ভাইরাসই শরীরে অ্যান্টিবডি সৃষ্টি করে। এই তত্ত্বের ভিত্তিতে দক্ষিণ আফ্রিকার স্ট্রেন বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ টিকাকরণ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কী প্রতিক্রিয়া দেখায়, তার অপেক্ষায় রয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

পাটকরের মতে, ‘ই৪৮৪কে’ প্রজাতি ভাইরাসের বিরুদ্ধে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি হওয়া অ্যান্টিবডি দ্বারা প্রতিরোধ হওয়ার সম্ভাবনা কম। এই কারণেই টিকাকরণ এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে তার আচরণ এখনও অনিশ্চিত।’

সাধারণত ক্যান্সার রোগীদের জন্য জেনেটিক সিকোয়েন্সিং করে থাকলেও কোভিড মহামারীর মোকাবিলায় নাভি মুম্বাই, পানভেল ও রায়গড়ের অন্য রোগীদের জন্যও এই পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে খারগড়ের টাটা মেমোরিয়াল সেন্টার।

গত এপ্রিল মাসে কোভিড ভাইরাসের ৪-৫টি প্রজাতির সন্ধান পেয়েছিল সেন্টারের এসিটিআরইসি বিভাগের গবেষক দল। সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা বেড়ে ১০-১২টি হয়ে দাঁড়ায়। পাটকর জানিয়েছেন, ‘আশ্চর্যের বিষয় হল তিন পুরুষ রোগীর নমুনায় পাওয়া কোভিড ভাইরাসে ‘ই৪৮৪কে’ অভিযোজন ধরা পড়ে। তাদের বয়স যথাক্রমে ৩০,৩২ ও ৪৩ বছর।’

জানা গেছে, এই তিন রোগীর দুই জন ঠানের বাসিন্দা এবং তৃতীয় জনের বাড়ি রায়গড়ে। তিন জনেরই মৃদু কোভিড উপসর্গ দেখা দিয়েছিল, যার জেরে দুই জন হোম কোয়ারেন্টাইন এবং একজন হাসপাতালে ভর্তি হলেও ভেন্টিলেশনে থাকার প্রয়োজন হয়নি।                                                                                                                                                                        সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান টাইমস

Share.

About Author

Leave A Reply

hioidind